টোকাই : তামাচ্ছুম আনজুম এর কবিতা

Amader AtraiAmader Atrai
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৩১ AM, ১৪ ডিসেম্বর ২০২১

বছর দু’এক হবে এসেছে বিশ্বে করোনা,
পড়ালেখাও আর তেমন আগের মত চলেনা।
স্কুল কলেজ সব বন্ধ,
ছাত্র-ছাত্রীর জীবন হয়ে যাচ্ছে অন্ধ
বেড়ে গেছে জীবনে দ্বিধা আর দ্বন্দ্ব।
দেশ আছে এখন লকডাউনে,
জনমানবশূন্য গ্রাম-শহর টাউনে।
সারাদিন কি আর করব ঘরে,
বিকেলের দিকে তাই একটু বের হয়েছি সবে
ভাবছি এই লকডাউন কতদিন আর রবে।
হঠাৎ একটি ছেলে পড়ে নজরে,
ছুটছে সে নিজের মত সজোরে।
খুজছে বৈ-কি কিছু,
এটা দেখে আমিও ছুটলাম পিছু পিছু।
ছুটেই যাচ্ছে! ছুটেই যাচ্ছে!
থামার নেই কোন নাম,
হাপিয়ে শেষে, বললাম কেঁশে,
ওরে! এবার তো একটু থাম।
আমার কথা শুনে,
তাকালো ঘুরে পিছনে।
বললাম আমি,
লকডাউনে এভাবে ছুটছিস কেন?
ঘরে যা এখন
দেখিস আবার পুলিশে তাড়ে না যেন!
“ঘর”কথাটি শুনে সে
অট্টহাসিতে ফেটেছে।
কিছুক্ষণ হেসে, বলল সে শেষে,
আমাদের কি আর ঘর আছে?
যেথায় হয় রাত,
সেখানেই আমরা কাত।
এভাবেই আমরা কাটিয়ে দিই,
নানা আঘাত -প্রতিঘাত।
বাবা তোমার আছে বেঁচে
তুমি বুঝবে কি করে জ্বালা,
বাবা মরলে সবার ঘরে
লেগে যায় তালা,
পারতে ঘুরতে এভাবে তখন?
মন করে উজালা।
এখন যদি না বের হতাম,
মায়ের ঔষধের টাকা কিভাবে পেতাম?
ডাক্তার বলেছে,
মা ঔষধ না খেলে,
যাবে পৃথিবী থেকে চলে।
এবার বলো,
আমি বের না হলে,
আমাদের চলবে কি করে?
চোখে এসে গেল জল,
কিভাবে দেব পাল্টা জবাব
পাচ্ছি না কোনো বল।
বললাম আমি
এই নে,ধর কিছু টাকা
তোর তো এখন পকেট ফাঁকা
তোর মাকে ভালো ডাক্তার দেখা।
রেগে গিয়ে বলল সে,
মা যে,আমায় মানা করেছে।
মা একদিন বলেছিল,
শোন খোকা!
যতই হোক পকেট ফাঁকা,
বিনা কারনে কারো থেকে নিবিনা কোন টাকা।
আমি রাখব কথা খানি,
টাকা নিলে মা অভিমান করবে আমি জানি।
টোকাই এর সততার বলে,
চোখ ভিজে গেল জলে,
চোখের জল কি করে লুকাই,
চোখ মুছতেই খেয়াল করলাম,
কোথায় চলে গেল টোকাই।
বুঝতে পারলাম আজ
লকডাউন এ সবার দিন
একরকম যায় না,
কেউ দু’বেলা খেতে পায়,
কেউ আবার পায় না।

লেখকঃ মোছাঃ তামাচ্ছুম আনজুম
স্কুলঃ স্কুল অব লরিয়েটস ইন্টারন্যাশনাল
শ্রেণিঃ নবম, কুস্টিয়া।

 582 total views,  2 views today

আপনার মতামত লিখুন :