মহাদেবপুরে মা ও ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যু

Amader AtraiAmader Atrai
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:৪৩ PM, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ:

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরের  ডাক্তারপাড়া এলাকায় মা ও ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছ।

বৃহস্পতিবার ( ৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বজন ও এলাকাবাসী আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে সেখান থেকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে ছেলের এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়ের মৃত্যু হয়।

পুলিশের ধারণা, ২৫ বছর বয়সী পুঙ্গ ছেলেকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর মা নিজেও বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে এমনটা হতে পারে।

মৃত দুজন হলেন,  উপজেলা সদরের ডাক্তারপাড়া এলাকার বীরেন কুমার মন্ডলের স্ত্রী শেফালী রাণী মন্ডল (৪৮) ও তার ছেলে সুজন কুমার মন্ডল (২৫)।

বীরেন মন্ডল জানান, দুপুর ১২টার দিকে  তাঁর স্ত্রী তাঁকে ফোন করে তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে বলেন। অন্যথায় তিনি বিষ পান করবেন বলে হুমকি দেন। বাসায় ফিরে তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে অসুস্থ্য অবস্থায় দেখে সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের অবস্থার অবনতি ঘটলে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে বিকেল ৪টার দিকে ছেলের মৃত্যু হয়। তাঁর স্ত্রীকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বিকেল ৫টার দিকে তাঁরও মৃত্যু হয়।

এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে বীরেন মণ্ডলের বড় ছেলে সুজন কুমার এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। ওই দুর্ঘটনায় তিনি শারিরীকভাবে চলার শক্তি হারিয়ে  ফেলেন। দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসার পরেও তাঁকে সুস্থ্য করা যায়নি। এ ঘটনার পর থেকে তাঁর মা শেফালী রাণী হতাশায় ভুগছিলেন। এছাড়া বেশ কিছু দিন ধরে স্বামীর সঙ্গে শেফালী রাণীর পারিবারিক বিরোধ চলছিল। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। আজ দুপুরে বাড়িতে কেঊ না থাকার সুযোগে শেফালী রাণী প্রথমে ছেলেকে বিষ খাওয়ানোর পর নিজেও বিষ পান করে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বীরেন মন্ডল বলেন, আজ দুপুর ১২টায় তাঁর স্ত্রী তাকে ফোন করে তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে বলেন। অন্যথায় তিনি বিষ পান করবেন বলে হুমকি দেন। দ্রুত বাসায় ফিরে স্ত্রী ও ছেলেকে অসুস্থ্য অবস্থায় দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে ছেলের মৃত্যু হয়। নওগাঁ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তার স্ত্রী শেফালী রাণীকেও মৃত ঘোষণা করেন। তাঁরা দুজনেই বিষাক্ত গ্যাস বড়ি সেবন করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক কলহ চলছিল কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে বীরেন মন্ডল দাবি করেন, তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ছিল না। তবে ছেলের দুর্ঘটনার পর থেকে তাঁর স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং হতাশায় ভুগছিলেন।  এ কারণেই ছেলেকে হত্যার পর তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।

 এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজম উদ্দিন মাহমুদ জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।  মৃত দুজনের মধ্যেই বিষ পানে আত্মহত্যার লক্ষ্মণ পাওয়া গেছে। পুঙ্গ ছেলেকে নিয়ে হতাশা ও স্বামীর প্রতি অভিমানের কারণে ছেলেকে মেরে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  তবে এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

 

 444 total views,  4 views today

আপনার মতামত লিখুন :