নওগাঁর মাঠে ঘাটে আগের মতো আর ঘুঘু পাখির দেখা মিলেনা

Amader AtraiAmader Atrai
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৩২ PM, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

শামীনূর রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক:
বারবার ঘুঘু খেয়ে যাও ধান একবার ধরা পড়লে দিতে হবে জান কিংবা ঘুঘু দেখেছ ফাঁদ দেখোনি।
জানিনা কার ধান খাওয়ার অপরাধে ঘুঘু পাখি নিয়ে এরকম প্রবাদ রচিত হয়েছে। অপরদিকে ঘুঘু পাখিকে মারার নিয়ম কানুনকে নিয়ে গ্রাম অঞ্চলে লোক মুখে রচিত বচন শুনতে ভাল এবং হাস্যকর লাগলেও বাস্তবে ঘুঘু  পাখির অবস্থা আগের মতো ভালো নেই, বললে খুব একটা ভুল বলা হবেনা।
ঘুঘু পাখির ডাকে একসময় পরিবেশ মুখরিত ছিল। এক শ্রেনীর পাখি খেকোদের নজরে পড়ে আবহমান গ্রাম বাংলা থেকে শেষ হয়ে যাবার পথে ঘুঘু পাখি।
এ বিষয়ে কথা হয় নওগাঁ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের পার বোয়ালিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের সাথে  তিনি বলেন, আমি ছোট থেকেই এলাকায়  প্রচুর ঘুঘু পাখি দেখেছি এখন আর ঐ ঘুঘু নাই কারণ ঝোপঝাড় বিলীন হয়ে গেছে।
মানব সৃষ্ট পরিবেশের কারণে ঘুঘু পাখি বনজঙ্গল ঝোপঝাড় আগের মতো না থাকায় বংশ বিস্তার করতে না পারায় আসতে আসতে কমছে ঘুঘুর সংখ্যা। এদিকে ফসলি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করা সহ নানান কারণে হুমকির মুখে ঘুঘু পাখি।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী ঘুঘু পাখি শিকারের মধ্য দিয়ে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারছে পাখি শিকার কারীরা। ঘুঘু পাখি বেশ কয়েক জাতের হলেও এ অঞ্চলে তিলা জাতের ঘুঘু সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
ঘাস, আগাছার বীচি, শস্য দানা, গাছের কুড়ি ও কচি পাতা, ধান ইত্যাদি খেয়ে ঘুঘু পাখি  জীবন ধারণ করে থাকে । ঘুঘু অনেক ভীতু ও লাজুক আকারের পাখি কখনও জোড়ায় জোড়ায় কখনও দলবদ্ধভাবে চলাচল করে থাকে।
ঘুঘু পাখি অত্যান্ত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। প্রজননকালে বাসা বাধার কাজটি মূলত স্ত্রীপাখি করে থাকে তবে উপকরণ সংগ্রহ করে পুরুষ ঘুঘু পাখি। ছোট ডাল শুকনো ঘাস নিমের খিল দিয়ে বাসা বানায় ঝোপঝাড়ে সাদা দুটি ডিম পাড়ে ১৫-২০ দিনে এবং পুরুষ স্ত্রী উভয়ে মিলে ডিমে তা দিলে বাচ্চা ফুটে বের হয়।
এলাকার সচেতন মহল মনে করেন পাখি আমাদের পরিবেশ রক্ষা করে তাই ঘুঘু পাখি শিকার না করে এই পাখি রক্ষার মধ্য দিয়ে আমাদের পরিবেশের প্রতি বেশি সচেতন হতে হবে।

 524 total views,  2 views today

আপনার মতামত লিখুন :